বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলার পরিচয় পাঠ ১

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় শিল্পকলার পরিচয় পাঠ ১ ,যা বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলা ও ঐতিহ্যের পরিচয় অধ্যায় এর অন্তর্ভুক্ত।

শিল্পকলার পরিচয় পাঠ ১

শিল্পকলার পরিচয় পাঠ ১

 

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

• বাংলাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা ও দর্শনীয় স্থানগুলোর বর্ণনা দিতে পারব ।

• প্রাচীন শিল্পকলার নির্মাণশৈলীর বর্ণনা দিতে পারব।

• জীবন ও জীবিকার জন্য চারু ও কারুকলা শিক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করতে পারব।

• চারু ও কারুকলার ব্যবহারিকক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে পারব।

• কালের বিবর্তনে টিকে যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর নাম বলতে পারব।

বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলার পরিচয় পাঠ : ১

বাংলাদেশ নামক অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো ছবি কী? ভাস্কর্য কী? স্থাপত্য ও অন্যান্য শিল্পকলা কোথায় গেলে দেখা যাবে? এমন কিছু প্রশ্নের সহজ জবাবে বলা যায় একসঙ্গে এই পুরোনো শিল্পকলার কিছু পরিচয় পাওয়া যাবে ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সংগ্রহশালায়,

 

শিল্পকলার পরিচয় পাঠ ১

 

রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘরে, বগুড়ার মহাস্থানগড়ে কুমিল্লার ময়নামতি ও রাজশাহীর পাহাড়পুর জাদুঘরে। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চল পলিমাটির অঞ্চল। নরম মাটি ও জলাভূমি। ছোট-বড় অসংখ্য নদী ও খাল দ্বারা বেষ্টিত। ঝড়বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সব সময় যেন লেগে আছে। যারা বসবাস করত তারা বেশিরভাগই সাধারণ চাষি, মজুর ও গরিব।

রাজা-বাদশাহ ও শাসকদের মহলে তখন ছবি আঁকা ও অন্যান্য শিল্পকর্মের চর্চা ছিল। একমাত্র তাঁদের মহল ও বাড়ি-ঘর ইটের দেয়াল, পাথরের খিলান শক্ত করে তৈরি হতো। সাধারণ বাড়িঘর ছিল ছনের মাটির, বাঁশের ও খড়ের।

খ্রিষ্টের জন্মের আগে বেশ কিছুকাল এই অঞ্চল শাসন করেছে মৌর্য বংশের রাজারা। এই বংশের শক্তিশালী রাজা ছিলেন সম্রাট অশোক। খ্রিষ্টীয় চার শতক থেকে কয়েকশো বছর রাজত্ব করেন গুপ্ত বংশের রাজারা।

গুপ্তযুগের বিখ্যাত রাজাদের নাম সমুদ্রগুপ্ত, কুমারগুপ্ত, বৈন্যগুপ্ত প্রমুখ। এরপর কয়েকশো বছর রাজত্ব করেন পালবংশের রাজারা। তাঁদের আমলের যেসব শক্তিশালী রাজার নাম পাওয়া যায় তাঁরা হলেন গোপাল, ধর্মপাল, দেবপাল, মহীপাল, রামপাল প্রমুখ।

 

শিল্পকলার পরিচয় পাঠ ১

 

তারপর আসে বর্মণরা ও সেন বংশীয় রাজারা। সে-সময় গোটা বাংলাভূমি অঞ্চল দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের নাম ছিল গৌড়রাজ্য। দক্ষিণ-পূর্বভাগের নাম ছিল সমতট। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বখতিয়ার খিলজি রাজা লক্ষ্মণ সেনের কাছ থেকে এই বাংলা অঞ্চল ছিনিয়ে নিয়ে রাজত্ব শুরু করেন।

তিনি ছিলেন জাতিতে তুর্কি। এরপর মুঘল সম্রাট আকবরের আমল পর্যন্ত কয়েকশো বছর চলে মুসলিম সুলতানদের রাজত্বকাল। সে-সময়ের নাম সুলতানি আমল।

এই সময়ের উল্লেখযোগ্য সুলতান ছিলেন ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ্, শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ্, সেকান্দর শাহ্, গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ্, জামালউদ্দিন মোহাম্মদ শাহ্, আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্, গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ প্রমুখ। এরপর বাংলা শাসন করেন মুঘলরা, মাঝে মাঝে কোনো স্বাধীন নৃপতি।

তারপর শেষ স্বাধীন নৃপতি সিরাজ-উদ্-দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত ও হত্যা করে ইংরেজ শাসন কায়েম হয়। দুইশত বছর ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত নামে ২টি দেশ স্বাধীন হয়। পাকিস্তানের দুই অংশ।

পূর্ব-পাকিস্তান ও পশ্চিম-পাকিস্তান। ১৯৭১ সালে আমরা পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে পূর্ব-পাকিস্তানকে মুক্ত করে বর্তমান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি ।

 

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment